।। ৩য় পর্ব।।
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে রেলওয়েতে যোগদানের পর থেকেই নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন ফকরুল আলম পারভেজ। ছাত্র জীবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চুর (ডান হাত) হওয়ায় দাপুটে পরিস্থিতি থাকতো সবসময়ই। চট্টগ্রাম আমবাগান, বাস্তুহারা এলাকায় যার প্রভাব লক্ষনীয়। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কাজে সার্বক্ষণিক সময় দেওয়ার কারনে ঠিকঠাক মতো নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেন না। তাই অভিনব কৌশলে চট্টগ্রামের স্থানীয় এক সহজ সরল ভার্সিটি পড়ুয়া ছাত্র মীর মোহাম্মদ আজিজুল আমিন (৩২) কে স্টেশন মাস্টার হিসেবে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভনে নিজ কর্মস্থল (চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট,ষোলশহর, সরকারহাট,হাটহাজারী) স্টেশন সমূহে কাজ করাতেন। যেখানেই অনিয়মের কারনে ফকরুল বদলী হতো সেই স্টেশনে টিএসআর, মাসিক আর্নিং চার্ট, ও ট্রেন অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বহিরাগত মীর মোহাম্মদ আজিজুল আমিন’কে দিয়ে করাতেন আওয়ামী প্রভাবশালী স্টেশন মাস্টার ফকরুল আলম পারভেজ চাকুরী প্রলোভনে। বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানতো। তখন টিআইটি চট্টগ্রাম হিসেবে সকল স্টেশন পরিদর্শন করতো মনিরুজ্জামান বর্তমানে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা। ডিভিশন থেকে সুপারিন্টেন্ডেন্ট ফারুক আহমেদ পর্যন্ত এই অনিয়ম সম্পর্কে জানতো। নিরুপায় রেলওয়ে কর্মকর্তারা। কিছু বলতে গেলেই নারী দিয়ে হেনস্তার হুমকি দিতো ফকরুল আলম পারভেজ।
স্টেশন মাস্টারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে বহিরাগত লোক দিয়ে কাজ করানোর বিষয়টি খুবই উদ্বেগের।
এইভাবে বিনা বেতনে কাজ করতে করতে অসহায় ছেলেটার সরকারি চাকুরির বয়স শেষ প্রান্তে চলে আসলে ফকরুল আলম পারভেজ তাকে ছুঁড়ে বাহির করে দেন। ছেলেটি নিরুপায়। কোথায় যাবে বিচার প্রার্থী হয়ে, সর্বক্ষেত্রেই তো সবাই ফকরুল আলম পারভেজের লোক। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে মীর মোহাম্মদ আজিজুল আমিন আত্মহত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় এই যাত্রায় সে রক্ষা পায়।
রেলওয়ের বাহিরের একজন শিক্ষিত অসহায় সহজ সরল যুবক মীর মোহাম্মদ আজিজুল আমিন রেলওয়ে সম্পর্কে বিশাল জ্ঞান অর্জন করেছেন। দীর্ঘদিন ফকরুল আলম পারভেজের মিথ্যা প্রলোভনে কাজ করে হয়েছেন দক্ষ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারতো।
মীর মোহাম্মদ আজিজুল আমিন বলেনঃ জীবন চলার জন্য আমার একটি চাকুরির প্রয়োজন ছিলো। আমাকে সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সকল যায়গায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কখনো তা করে দেননি। আমি বাধ্য হয়েই আত্মহত্যার চেষ্টা করি। আল্লাহ রহমতে আমি বেঁচে ফিরি। আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী সেই রাতে আমার জন্য পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিল। আমি উনাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার মতো এই ভুল যেনো কেউ না করে। ফকরুলদের ফাঁদে পড়ে জীবন যেন শেষ না করে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সভাপতি জনাব শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম স্টেশনে কর্মরত ছিলাম। আমার নজরে আসতো এবং আমাদের চট্টগ্রাম ডিভিশনের সবাই জানতো ছেলেটিকে দিয়ে ফকরুল আলম পারভেজ নিজ কাজ করিয়ে নিতো। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ঠিকমতো কর্মস্থলে থাকার সুযোগ পেতেন না।
ফকরুল আলম পারভেজকে ৩টি নাম্বারে একাধিক বার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।