বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৬ বছর কোনো প্রকার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তবে ৫ আগস্টের পর ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন দিশা খুঁজে পায় সংগঠনটি। তারই ধারাবাহিকতায়, ১৭ মার্চ, সোমবার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত হয় “বারাকাহ ইফতার মাহফিল”। উক্ত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজ অডিটোরিয়াম। আয়োজিত এই মাহফিলে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য এইচ.এম. সালাউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, “রমজান আত্মশুদ্ধির মাস। এই মাস আমাদের ত্যাগ, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। একজন শিক্ষার্থীর শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং নৈতিকতা ও চারিত্রিক দৃঢ়তা অর্জন করাও জরুরি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির, ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এমরান হোসাইন এবং কলেজ বিষয়ক সম্পাদক সাহিদ রায়হান। তারা বলেন, “ইসলামী আদর্শের আলোকে দেশ ও সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ব্রত নিতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার সভাপতি এইচ.এম. আব্দুল মালেক জিহাদী। তিনি বলেন, “ছাত্রশিবির ছাত্রদের নৈতিক ও শিক্ষাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেকে আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।”
এতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার ইংরেজি বিভাগের সাধারণ সম্পাদক খ. ম. লুৎফর রহমান ইমন বলেন, “এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও একতা তৈরি করতে সহায়তা করে। সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানের শেষে মোনাজাত করেন কলেজ মসজিদের ইমাম। মোনাজাতে দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার উদ্যোগে আজকের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও করতে চাই।
উপস্থিত অতিথিরা সুন্দর আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও বড় পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান।