রেদওয়ানা আফরিন:
দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু পূর্বের তালিকাভুক্ত পরিবারের অনেকেই এখনো টিসিবির স্মার্ট কার্ড পাননি। ফলে রোজা চললেও এ সময়ে কার্ড না পাওয়ায় টিসিবির সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছেন পূর্বের কার্ডধারীরাও। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব তালিকাভুক্ত ৭ হাজার ৮৮১ টি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ২০৭টি পরিবারকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিক্রির জন্য টিসিবির আওতায় এ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৮৮১ টি পরিবারকে সেবা কার্ড দেওয়া হয়েছিল। টিসিবির সেবা কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ৩০ টাকা দরে ৫ কেজি চাল, ১০০ টাকা দরে ২ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ও ৬০ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারতেন।
অবশ্য সরেজমিনে দেখা যায়,‘রমজান উপলক্ষে এখনো টিসিবির মালমাল বিক্রি শুরু হয়নি। বিশেষ করে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিতরনের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গত ৫ মাস যাবত বরাদ্দের অভাবে সুবিধাভোগিদের কাছে তেল পৌঁছাতে পারেননি।
মেসার্স সৈনিক ষ্টোরের ডিলার মো: জাকির হোসেন মন্টু বলেন, গত জানুয়ারি মাসে তারা ১ কেজি চিনি ৭০ টাকা দরে, ৫ কেজি চাল ১৫০, ১ কেজি চিনি ৭০ টাকা, দুই কেজি ডাল ৬০ টাকা দরে ১২০ টাকা হিসাবে মোট ৩৪০ টাকায় মালামাল বিক্রি করেন। তবে রমজান উপলক্ষে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে খেজুর ও বুট।
একাধিক সুবিধাভোগী জানান, গত নভেম্বর মাসে অনলাইন করার কথা বলে সুবিধাভোগীদের নিকট থেকে টিসিবির সেবা কার্ড পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে জমা নেওয়া হয়।
বেতাগী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানান, টিসিবির সাধারণ কার্ডগুলো যাচাই-বাছাই করে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডে পরিণত করার জন্য টিসিবির কার্ড জমা নিয়ে অনলাইন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাধারণ সেবা কার্ডের পরিবর্তে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করা হয়েছে।
টিসিবির একাধিক ডিলাররা জানান, মাল দেওয়ার সময় পুরানো কার্ড নিয়ে অনেকে ভীড় জমান। কিন্ত টিসিবির স্মার্ট কার্ড না থাকায় তাদেরকে মালামাল দেওয়া যায়না। ফলে বাধ্য হয়ে খালি হাতে তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়।
টিসিবির একাধিক সুবিধাভোগিরা জানান, অনলাইন করার জন্য টিসিবির কার্ড বেতাগী পৌরসভায় জমা দিয়েছিলেন কিন্তু এখনো স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড পাননি।
বেতাগী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন,‘আমি টিসিবির সেবা ছাড়া সরকারের আর কোনো সহায়তা পাই না। তারপরও আমার স্মার্ট কার্ডটি পেলাম না। সয়াবিন তেলের জন্যই টিসিবির সেবা কার্ড নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডটি এখনো হাতে পৌঁছেনি।
বেতাগী পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আ: সোবাহান জানান, রোজা চললেও এখনো স্মাট কার্ড হাতে না পাওয়ায় আমরা এখনো টিসিবির সুবিধাবঞ্চিত। গত কয়েক দিন যাবত খোঁজ করছি কিন্তু কার্ড না পাওয়ায় জানুয়ারী মাসের পণ্য সামগ্রী ওঠাতে পারেননি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছি।
শুধূ সোবাহানই নয়, মোকামিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহাবুবব হোসেন আকন ও মোকমিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: লিটন তারাও হতাশায় কাটাচ্ছে। একই এলাকার জামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা টিসিবির স্মার্ট কার্ড পাবো কি না, পাইলেও কখন পাবো কিছুই তো বুজে উঠতে পারছি না।
এ দিকে যাচাই-বাছাই করে মোট কতজনকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে তা নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না। তবে বেতাগী পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, বেতাগী পৌরসভায় টিসিবির আওতায় ৬১৯টি পরিবার। যাচাই-বাছাইয়ের পর মাত্র ইতোমধ্যে ৩৬৬টি স্মার্ট কার্ড বরাদ্দ পাওয়া গেলেও তা অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো: আলতাফ হোসেন বলেন, অনলাইন করার পর যাচাই-বাছাইয়ের পর যে পরিমান কার্ড বরাদ্দ পাওয়া গেছে। স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়ায় তার সব এখনো বিতরণ করা যায়নি।
স্মার্ট কার্ডের সংখ্যা নিয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান বলেন, এ যাবৎ ৫ হাজার ২০৭টি স্মার্ট কার্ড পাওয়া গেছে। তবে আরও স্মার্ট কার্ড পাওয়া যেতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: বশির গাজী বলেন, ইতোমধ্যে অনেকের মাঝেই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে। তবে টিসিবির সুবিধাভোগি অনেকেই এলাকায় না থাকায় তাদের কার্ড এ্যাক্টিভ করা যায়নি।