মোঃ আল-আমিন ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের জাতীয় ফল হিসাবে সরকারিভাবে নির্ধারিত কাঁঠাল। জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন কাঁঠাল গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁঠালের মুচি। যদিও পুরো পাকা পুক্ত কাঁঠাল হওয়ার সময় বাঁকী রয়েছে আরও তিন মাসের মতো।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায় প্রতি বছরের মতো এ বছরও প্রতিটি গাছে প্রচুর কাঠালের মুচি ধরেছে। বসতবাড়ির আঙ্গিনা থেকে শুরু করে ফসলী জমির দু’ধারসহ বিভিন্ন জমিতে জাতীয় ফল কাঁঠালের ফলন চোখে পড়ার মতো। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে মগডাল পর্যন্ত থোকা থোকা থোকা, ঝুলে থাকা কাঁঠালের মুচিগুলোই বলে দেয় ফলনের জন্য উপযোগি এই এলাকার মাটি। এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কাঠাল গাছে ব্যাপকহারে কাঁঠালের ফলন লক্ষণীয়।এখানকার মানুষের প্রিয় ফল হিসেবে কাঁঠালের কদর পেয়ে আসতেছে। কাঁঠালের আঁটিও একটি তরকারি। বিশেষ করে কাঠালের আঁটি দিয়ে তৈরি ভর্তা সকলের অত্যন্ত প্রিয়। বিভিন্ন ধরনের শাক ও কাঁঠালের বিচির সমন্বয়ে রান্না করা তরকারি এ এখানকার মানুষ তৃপ্তির সঙ্গে ভাত খেতে পারে। তাছাড়া গবাদিপশুর জন্যও কাঁঠালের পাতা উন্নতমানের গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক প্রকারের সবুজ রঙের সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল।বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ পরিদৃষ্ট হয়। কাঁঠাল গাছের কাঠ আসবাবপত্র তৈরির জন্য সমাদৃত। কাঁঠাল পাতা বিভিন্ন প্রাণীর পছন্দের খাদ্য। এই ফলের বহির্ভাগ পুরু এবং কান্টকাকীর্ণ, অন্যদিকে অন্তরভাগে একটি কান্ড ঘিরে থাকে অসংখ্য রসালো কোয়া।মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, বহুগুণ সমৃদ্ধ এ কাঁঠাল এখানকার হাট-বাজারে এখনও উঠতে শুরু করেনি। তবে আশা করছি জ্যৈষ্ঠের শেষ ও আষাঢ় মাসের শুরু থেকে এখানকার হাট-বাজারে কাঁঠাল কেনাবেচা শুরু হবে।জলঢাকা উপজেলায় ভাবনচুর গ্রামের মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, তার বাড়িতে বেশ কয়েকটি কাঁঠাল গাছ আছে। এবছর তার গাছে প্রচুর কাঁঠালের মুচি এসেছে। বড় গাছে ১০০-২০০টি এবং ছোট গাছে ৭০-১০০টি করে মুচি রয়েছে। যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে এ বছর প্রতিটি গাছে প্রায় শতাধিক কাঠাল থাকবে বলে আশা করেন চাষিরা। তবে কাঠাল পরিপক্ষ হতে আরো ৫০-৭০ দিনের মতো লাগবে।ভাবনচুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান বলেন, এ অঞ্চলে কাঁঠালের চাহিদা মিটিয়ে পাশ্ববর্তী জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে কাঁঠাল রপ্তানি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কিছু কিছু বারোমাসি গাছের কাঁঠাল পাঁকতে শুরু করেছে। পাঁকা কাঁঠালের মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছিরা গুঞ্জনে মুখরিত করে রাখে গাছগুলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত