নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরে যেন ‘চাঁদাবাজির চেরাগ’ পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর৷ সিদ্ধিরগঞ্জের অপরাধ সাম্রাজ্যের অলিখিত নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছেন এই সাগর৷ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হাট-ঘাট দখল, কমপক্ষে বিশটি গার্মেন্টেসের ঝুট নামানোসহ অপরাধের এমন কোনো শাখা-প্রশাখা নেই যেখানে বিচরণ নেই সাগরের। সর্বশেষ গত ৬ মার্চ আদমজী পুরাতন থানার সামনে ইপিজেডের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলিতে অংশ নেয় সাগরের ক্যাডাররা৷ সেদিন প্রকাশ্যে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে গুলি করে সাগরের আপন ফুপাতো ভাই সোহাগ। কিন্তু সেই ঘটনার পরে এখন সোহাগকে চিনতেই পারছেন না সাগর৷
জানা যায়, সাগরের অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনীর দেখভাল করেন সোহাগ৷ বিগত প্রায় সাত মাস ধরে সাগর ও তার বাহিনীর অত্যাচারে সিদ্ধিরগঞ্জের জনসাধারণ অতিষ্ঠ৷ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শামীম ওসমানের দুর্ধর্ষ ক্যাডার, ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মতিউর রহমান মতির ভাতিজা সাগর। পটপরিবর্তনের পরে মতির যাবতীয় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন এই সাগর৷ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রের মহড়াকে নিয়মিত রুটিনে পরিণত করেছে সাগর ও তার ক্যাডারেরা। বিগত ছয় মাসে এভাবেই অবৈধ আয়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন সাগর।
একাধিক সূত্র জানায়, সাগর সিদ্ধিরগঞ্জের অনন্ত এপারেলস, ইউনিভারসেল, ডিএন্ড বি, মারুশিয়া, ইকোহামা, সিম্বা, টিএসটেকসহ কমপক্ষে বিশটি গার্মেন্টসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন সাগর। গত ৬ মার্চ ইপিজেড দখল সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে গুলি করা সোহাগসহ অন্যান্য সকলেই সাগর বাহিনীর ক্যাডার৷ কিন্তু ওই ঘটনার পরে সাগর দাবি করেছেন, তিনি সোহাগকে চেনেনই না। অথচ সাগরের আপন ফুপাতো ভাই সোহাগ৷ একসঙ্গে তাদের অসংখ্য ছবিও রয়েছে৷ সোহাগের গুলি করার ছবি জাতীয় ও স্থানীয় অসংখ্য ভিডিও ও ছবি জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে৷ এরপর থেকেই যৌথবাহিনী সাগর-সোহাগ বাহিনীর সকলকে হন্যে হয়ে খুঁজছে।
সাগরের অস্ত্রধারী ক্যাডার সোহাগ বছরখানেক আগেও ডিবি পুলিশের গাড়ির ড্রাইভার ছিল৷ এরপর সেই চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ইয়াবার ডিলার হয় সোহাগ। সিদ্ধিরগঞ্জের নাভানা হাউজিংয়ের নিজস্ব আস্তানা থেকে ইয়াবার পাইকারি চালান সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ১৫টির বেশি মামলার আসামি মান্নান ওরফে মান্না৷ ৫ আগস্টের পরে সোহাগ, সজিব, মিকি, বাবু, কামাল, সাব্বিরসহ অর্ধশতাধিক অস্ত্রধারী ক্যাডার আদমজী কবরস্থানের পাশেই আস্তানা গাড়ে৷ সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সাঁটিয়ে যাবতীয় অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে৷ এলাকায় বাড়ি করতে গেলেই চাঁদা দিয়ে হয় সাগর-সোহাগ বাহিনীকে। তাদের ভয়ে অনেকেই বাড়ির কাজ ধরতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা৷
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীনূর আলম বলেন, অস্ত্রধারী সোহাগকে পুলিশ এবং যৌথবাহিনী খুঁজছে। কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দখলদার, ঝুট সন্ত্রাসীকে কোনোপ্রকার ছাড় দেয়া হবে না৷ শিল্পাঞ্চল সিদ্ধিরগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত রাখতে যা যা করনীয়, এর সবকিছুই করবো আমরা৷ এ ব্যাপারে সাংবাদিকবৃন্দেরও সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন৷