টাঙ্গাইল (মির্জাপুর) প্রতিনিধি
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেই শনিবার সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে ভুক্তভোগী শিশু ও তার মাকে টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন থানা পুলিশ।
পরে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ধর্ষক সিএনজি চালক উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের নওশের মিয়ার ছেলে ফিরোজ মিয়া (৪৫) শিশুটি নানীর বাড়ির কাছে জমিতে সার দিচ্ছিলো। ওই জমির সাথেই শিশুটি বড়ই গাছ থেকে বড়ই পারছিল। তখন ফিরোজ মিয়া শিশুটিকে ডেকে নিয়ে একটি টয়লেটের ভেতর ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের কথা কাউকে না বলার কথা বলে ভয়ভীতি দেখায়। ধর্ষনের দৃশ্য মোবাইলে ধারন করা হয়েছে এবং সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় শিশুটিকে। ফিরোজ শিশুটিকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার শব্দ শিশুটির মা শুনেছিলেন বলে শিশুর মা জানান। ঘটনার পর বাড়িতে গিয়ে শিশুটি চুপচাপ থাকায় তাকে জিজ্ঞেস করা হলেও কিছু বলছিলোনা। বারবার জিজ্ঞেস করায় একপর্যায় কান্না করে পুরো ঘটনা মাকে খুলে বলে ভূক্তভোগী শিশু।
পরে সময় পার হওয়ার সাথে সাথে পাড়া প্রতিবেশিরা ঘটনা জেনে যায়। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় মালেক, বাবুল ও ফাজুসহ কয়েকজন মাতাব্বর ঘটনার এক সপ্তাহ পর গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে ধর্ষক ফিরোজকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গ্রাম্য মাতাব্বরদের চাপে সালিশ মেনে নিলেও জরিমানার ৫৮ হাজার টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে বলে শিশুটির মা জানান।
এদিকে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরেই শুক্রবার রাতে ধর্ষককে আটক করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। ধর্ষক ফিরোজ কয়েকদিন আগেই এলাকা থেকে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোশারফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ধর্ষককে ধরতে শুক্রবার রাত ভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে তিনি জানান।