মুহাম্মদ ইমরান বিন অহেদ
শীতের সূর্যটা আজও নিভু নিভু। অনুধাবনে গরমের আগমন। বেলা প্রতীয়মান হলেও প্রভাবটা একটু কম। সবমিলিয়ে আজ পরিবেশের চাহিদা হল একটু উষ্ণতা।যার পরম পরশে সবকিছু হয়ে উঠবে তরুতাজা।এমন মোক্ষম সময়ে নিয়ে এল উষ্ণতার এক নতুন গল্প।
জমিন যেমন পানি না পেয়ে বুক ফাটা আর্তনাদ করে।খড়া-রৌদ্র দুপুরে গরম সহ্য করতে না পেরে ফেটে চৌচির হয়ে যায়। তৎপর খোদার পরম করুণায় আসমান থেকে বর্ষিত পানি দ্বারা হয় সিক্ত।
তেমনি বান্দা নফসের তাড়নায় ভুলে যায় আসল পথ। আপন রবকে ছেড়ে কুপ্রবৃত্তির আর্চনা করে। দিশেহারা হয়ে ধোকাময় দুনিয়ায় শান্তি খুঁজে বেড়ায়। জীবনের প্রতি অতিষ্ঠ হয়ে নিরাশ হয়। পরিশেষে ভগ্ন হৃদয় একটু উষ্ণতার ছোঁয়া পেয়ে হতে চায় ধন্য।
ঠিক তখনই আদম সন্তানের জন্য দয়াময় আল্লাহ দান করেন রমজান নামক এক উষ্ণতা।
মাছ যেমন পানি পেয়ে ফিরে পায় জীবন। গাছপালা ফিরে পায় তার সজীবতা।পাখি যেমন খোলা আকাশে খুঁজে পায় তার স্বাধীনতা। দিন যেমন সূর্যের আলোতে খুঁজে পায় তার জীবনের সার্থকতা। সন্ধ্যা যেমন চাঁদের আলোতে খুঁজে পায় তার স্নিগ্ধতা।
তেমনি গুনাহগার বান্দা রমজানের স্নিগ্ধতায় খুঁজে পায় এক নতুন যাত্রা। অনুভব করে পাপমুক্ত জীবনের একটু উষ্ণতা। মিলে যায় তার সহজ-সরল পথের দিশা।
রহমত, নাজাত ও মাগফেরাত নিয়ে আগমন করে প্রিয় রমজান। রমজান আসে আদম সন্তানকে পরিশুদ্ধ করতে। শয়তানের ধোকায় পড়ে বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথের দিশা দেখাতে। রমজান আসে মজলুম ও অসহায় মানুষের আর্তনাদ বুঝাতে। রমজান আসে রবের সেজদায় আনন্দ ঘেরা মুহূর্ত অনুধাবন করাতে। রমজান আসে আপন পাপ মোচন করে স্বীয় রব কে চেনাতে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজান আগমনের পূর্বে নিজেকে সার্বিক দিক থেকে প্রস্তুত করতেন। যেন কোনোভাবে রমজানের রোজা রাখতে অসুবিধা না হয় সেদিকে খুব খেয়াল রাখতেন। এবং রমজানে অলসতা কে কোন ভাবে প্রশ্রয় দিতেন না।
কেননা পবিত্র রমজান মাস আদম সন্তানের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত একটি সুবর্ণ সুযোগ। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মানুষ আপন পাপ মোচন করে পূণ্যের পাল্লা ভারি করতে পারে। এবং পরকালে সুখময় জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত