নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স -মাস্টার্স শেষ করে সহকারী স্টেশন মাস্টার হিসেবে রেলওয়েতে চাকুরী পান প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর সুপারিশে। ফকরুল আলম পারভেজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন কালে শাখা ছাত্রলীগ কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
চাকুরীর পর ধীরে ধীরে রেলওয়ে পরিসরে নিজের অবস্থান তৈরী করেন। চট্টগ্রাম মহানগর নগরীর যুবলীগের আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর ডান হাত খ্যাত ফকরুল আলম পারভেজ চট্টগ্রাম রেলওয়েতে ছিলেন বেপোরোয়া । মহিউদ্দিন বাচ্চুর প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর নিজ বাসা চট্টগ্রাম আমবাগানের পার্শ্ববর্তী স্টেশন গুলোর ডিউটি করেই কাটিয়ে দিয়েছেন। নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য চট্টগ্রাম জংশন কেবিন, হতে চট্টগ্রাম কেন্টনম্যান্ট পরে ষোলশহর জংশন বদলী করা হয়। এতেও অনিয়ম দুর্নীতি মুক্ত হয়নি রেলওয়ের এই আওয়ামিলীগের প্রভাবশালী স্টেশন মাস্টার ফকরুল আলম পারভেজ।
ষোলশহর জংশন স্টেশনে গেইট কিপার (ট্রাফিক) অস্থায়ী বাবুল ডিউটি না করেও মাসের পর মাস বেতন তুলতেন মাস্টার ফকরুলের দাপটে। যেকোনো বদলী, পদোন্নতি সবকিছুর লবিং করতেন এই মাস্টার ফকরুল।
মহিউদ্দিন বাচ্চুর প্রভাবে দাপুটে ফকরুল আলম পারভেজ সাবেক সিওপিএস জাকির হোসেন, ট্রেন কন্ট্রোলার সাহিদ হোসেন খোকন, স্টেশন মাস্টার শফিকুল ইসলাম, স্টেশন মাস্টার আব্দুস সালাম, জুনিয়র অডিটর মাসুদুর রহমান চৌধুরী, মিজানুর রহমান, সহ গড়ে তুলেন ট্রাফিক ঐক্য পরিষদ নামে এক সিন্ডিকেট । বদলী, পদোন্নতি, নিয়োগ বানিজ্য, কর্মচারীদের বাসা/আবাসন বানিজ্য সহ নানান অপকর্মে লিপ্ত থাকতো এই ফকরুল -জাকির সিন্ডিকেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন আমরা তাদের কাছে একপ্রকার নিরুপায় ছিলাম। আওয়ামী সরকারের দাপট খাটিয়ে তারা বিভিন্ন কাজ-ফাইল নিয়ে আসতো। তা পাশ না করে দিলে বদলী সহ নারী দিয়ে হেনস্তার হুমকি দিতো ফকরুল। আমরা বাধ্য হয়েই তাদের কাজ করতে হতো৷ তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ফুলের তোড়া নিয়ে দেখা করতো এর মধ্যেই অপকর্ম সফল করে নিতো। আমাদের কাছে তাদের সেই ফুলের তোড়া ছিলো অভিশাপের মতো ।
রেলওয়ে সূত্র বলছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ‘ফুল কমিটি’ নামেই বহুল পরিচিত ছিলো ফকরুল -জাকির সিন্ডিকেট।
রেলওয়ে এক বিশেষ সূত্রে যানা যায় ফকরুল-জাকির সিন্ডিকেটপর অন্যতম সদস্য সাহিদ হোসেন খোকন বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোলার পাহাড়তলীর নামে ১০ বার রেলওয়ে বাসা বরাদ্দ হয় এবং পতিবারই তা অন্য কর্মচারীদের কাছে বিপুল অর্থে বিক্রি করে দিতেন। এ নিয়ে নিউজ হওয়ার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। ফকরুল- সিওপিএস জাকির হোসেন সিন্ডিকেটের দাপটে তদন্ত কমিটি ও ফাইল আড়ালেই পরে যায়।
কমলাপুর স্টেশন থেকে যানা যায় দীর্ঘ ২ মাস যাবৎ কোন ভাড়া প্রদান ছাড়াই কমলাপুরস্থ রেলওয়ে রিটার্নিং রুম ৪ নং কক্ষ দখল করে আছেন সাহিদ হোসেন খোকন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেশন মাস্টার বলেন বিষয়টি বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা জানেন আমরা উনাকে জানিয়েছি।
গত কয়েকদিন ধরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে ফকরুল আলম পারভেজের শাস্তির দাবীতে চট্টগ্রাম, সিলেট,ঢাকা, খুলনা সহ সারা দেশের রেলওয়ে পরিসরে প্রতিবাদী পোস্টার লক্ষ করা যাচ্ছে।
এই বিষয়ে রেলওয়ে সর্বস্তরের কর্মচারীরা বলছেন আমরা আতঙ্কিত এতো কিছুর পরেও ফকরুল আলম পারভেজকে চট্টগ্রাম হাটহাজারী স্টেশন হতে সরিয়ে প্রশাসনিক কোন শাস্তির ব্যবস্থা হচ্ছে না। জাকির হোসেন পদোন্নতি পেয়ে রেলভবন জয়েন করলেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে বহু নিউজ ও অভিযোগ জমা আছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে। বর্তমানে সৈরচারী আওয়ামী লীগ সরকার না থাকলেও তাদের দোষর ফকরুল আলম পারভেজ ও জাকির হোসেনদের দাপুটে ভাবে আমরা অতিষ্ঠ।
তাদের শাস্তি হলে সকল কর্মচারীদের মনে আসবে শান্তি।
কিছুদিন আগে অস্থায়ী টিএলআর কর্মচারী নিয়োগের অনিয়ম নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন নিউজ করে সেখানে টিএলআর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বক্তব্যে জাকির হোসেনের নাম উল্লেখ করেন টাকার সাথে জড়িত। নিউজের পর তড়িঘড়ি করে জাকির হোসেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা রেলভবন যোগদান করেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কি আসলেই পারবে সাধারণ কর্মচারীদের মনে বড় প্রশ্ন!