এম জাফরান হারুন::
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের ১ং ওয়ার্ডের চাঁদপুরা গ্রামের সেই চাঞ্চল্যকর মহিউদ্দিন ফকির (২০) কে গলা কেটে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ তুহিন (২২), পিতা-মোঃ সেলিম হাওলাদার, সাং-দূর্গাপুর, থানা পটুয়াখালীকে ডিএমপির কাফরুল থানার পশ্চিম ভাষানটেক এলাকা থেকে গ্রেফতার সহ ২ হত্যাকারীকে গ্রেফতার পূর্বক রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ এক প্রেসবিফ্রিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঘটনার জানান দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহত মহিউদ্দিন ফকির, পিতা- মোঃ জাফর ফকির, সাং-ইটবাড়িয়া, থানা- পটুয়াখালী একজন অটোচালক। তিনি গত ৪ই ফেব্রুয়ারি ২৫ ইং তারিখ বেলা ১১টার দিকে তার অটো নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এবং পরেরদিন সকালের দিকে দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা গ্রামের রুহিতপুর এলাকার মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদারের তরমুজ ক্ষেত সংলগ্ন উত্তর পাশে টং ঘরের ভিতর মাচার উপর খড়কুটা দিয়ে ঢাকা রক্তাক্ত অবস্থায় মহিউদ্দিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ সংক্রান্তে বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায়, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে চাঁদপুরা গ্রামের বাসিন্দা মৃত- নুরুল হক হাওলাদারের পারিবারিক কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে কাচা রাস্তার উপর থেকে একইদিন বিকেল তিনটার দিকে অটোগাড়ি উদ্ধার করা হয় এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক আসামি মোঃ নাহিদ (১৪), সাং-কালিকাবাড়ি, মহিষকাঠা, থানা- আমতলী, জেলা- বরগুনাকে তার নানা বাড়ি পটুয়াখালী সদর থানার শারিকখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে গত ১৫ ই ফেব্রুয়ারি রাত্র আটটার দিকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। আসামি মোঃ নাহিদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাবিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামি মোঃ তুহিন কে ১৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে বারটার দিকে ডিএমপির কাফরুল থানার পশ্চিম ভাষানটেক থেকে গ্রেফতার করা হয়। এবং জানায় তুহিন কে সাথে নিয়ে আসামি নাহিদ অটো ছিনিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে মহিউদ্দিনকে হত্যা করে।
এরমধ্যে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ০১ টি বাংলা দা, নিহতের ব্যবহৃত রক্তমাখা ০১ জোড়া জুতা ও ব্যবহৃত (ঞঊঈঘঙ কঊ-৫) মডেলের মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মোঃ তুহিন জানায় নাহিদের সহায়তায় মহিউদ্দিনের ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মহিউদ্দিনকে বিভিন্ন কৌশলে পটুয়াখালী শহর থেকে দশমিনার আলীপুরা ইউনিয়নের চাঁদপুরা এলাকার ঘটনাস্থলে নিয়ে নিজে মহিউদ্দিনের গলায়, মুখে, বুকে ও পিঠে ছুরি ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে। এবং পরে পালিয়ে ঢাকায় গিয়ে গা-ঢাকা দেয়। হত্যার সময় নাহিদ মহিউদ্দিনের দুই পা চেপে ধরে। এ ঘটনাকে ধামা-চাপা দিতে তুহিন তার পরিহিত জামা-কাপড় নদীতে ফেলে দেয় এবং মহিউদ্দিনের মোবাইল নিকটস্থ একটি পুকুরে ফেলে দেয়।
আসামি মোঃ নাহিদ বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাবিঃ আইনের ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায় যে, সে ৮ম শ্রেনীতে লেখা-পড়া করে, অনুমান ২৫ দিন পূর্বে তার নানা বাড়ি পটুয়াখালী সদর থানার শারিকখালী গ্রামে বেড়াতে আসে। ঘটনার ০২ দিন পূর্বে শারিকখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সে খেলতে যায়। সেখানে তার সাথে আসামি মোঃ তুহিনের পরিচয় হয়। আসামি তুহিন মোটরসাইকেল চালায়। তারা ০২ জন মিলে মহিউদ্দিনের অটোগাড়ি (মিশুক) ভাড়া করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে ঘুরতে ঘটনাস্থলের পাশে কাচা রাস্তায় নিয়ে যায়। আসামি মোঃ তুহিন গাড়ির মধ্যে থেকে তাকে কানে কানে বলে যে, এই গাড়ি তারা মাইরা দিবে। ঘটনাস্থলের পাশে কাচা রাস্তায় যাওয়ার পর সে ও তুহিন অটো থেকে নামলেও ভিকটিম গাড়িতে বসে থাকে। পরে আসামি তুহিন মহিউদ্দিনকে হুমকি দিলে সে গাড়ি থেকে নামে এবং মহিউদ্দিন তার গাড়ির মধ্যে থাকা টাকা নিজ পকেটে নেয়। মহিউদ্দিনসহ আসামিরা হাটতে হাটতে ঘটনাস্থল জনৈক মোঃ নাসির উদ্দিন হাওলাদারের তরমুজ ক্ষেত সংলগ্ন উত্তর পাশে টং ঘরের মধ্যে যায়। সেখানে পানি দেয়ার জন্য ০১ টি ট্যাংকি ছিলো। ওই ট্যাংকি সরানোর পর সেখানে ০১ টি ধারালো দা তারা দেখতে পায়। আসামি তুহিন ওই দা উঠিয়ে তার হাতে নেয় এবং নাড়াচাড়া করে তখন আসামি তুহিন মহিউদ্দিনের নিকট ৩শত টাকা চায় এবং সে ওই টাকা পটুয়াখালী গিয়ে ফেরৎ দিবে বলে জানায়। মহিউদ্দিন ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় আসামি তুহিন তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মহিউদ্দিনের গলা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপ মারে। আসামি তুহিন নাহিদকে বলে যে, সে যদি না ধরে তাহলে তাকেও মেরে ফেলবে। তখন সে মহিউদ্দিনের দুই পা চেপে ধরে এবং আসামি তুহিন মহিউদ্দিনের মুখ চেপে ধরে। পরে মহিউদ্দিন আর নড়াচড়া না করলে তারা খড়কুটা দিয়ে মহিউদ্দিনের মৃতদেহ ঢেকে রাখে। এদিকে আসামি তুহিন মহিউদ্দিনের মোবাইল নিয়ে নেয় এবং তাকে একমুঠো টাকা দেয়। আসামি তুহিন মহিউদ্দিনের অটোর চাবি খুঁজে পায়নি। আসামি তুহিন এসময় মহিউদ্দিনের মোবাইল পনিতে ফেলে দেয়ার জন্য নাহিদকে বললে সে মোবাইলটা পানিতে ফেলে দেয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : ইসমাইল হোসেন সৌরভ,
নির্বাহী সম্পাদক:মো:শাহাবুদ্দিন খান
বার্তা প্রধান : মোহাম্মদ শাহ্ কামাল,
কপিরাইট © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত