অথই নূরুল আমিন
বাংলাদেশের অধঃপতনের প্রধান যেসকল কারণ আছে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হল তদবির। এই তদবির বাণিজ্য এই জাতির এত বড় ক্ষতি করেছে।
যা আরো পঞ্চাশ বছর লিখেও শেষ করা যাবে না।
তদবির হলো একটি জাতি নষ্ট হবার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যখন কোন দেশের উচ্চ মহলে কোন জাতি নিলজ্জ হয়, লোভী হয়, চোর হয়, তখনই সেই দেশে তদবির নামের এই ভয়ংকর থেকে ভয়ংকর এই তদবির শব্দটার জন্ম হয়।
তদবির শব্দটা হলো সবচেয়ে ঘৃণিত একটি শব্দ।
যা থেকে একটি জাতির গোটা একটি সমাজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। কথা থাকে যে, এই তদবির কিন্তু নব্বই ভাগেই হয়, উচ্চ শিক্ষিত লোকদের মাঝ থেকে প্রথমত : যেখানে স্যার স্যার আর স্যার শব্দের উচ্চারণ হয় প্রতি ঘন্টায় তিনশ ষাট কিলো বেগে এবং যার কোন বিরাম হয় না।
এখানে কিন্তু প্রথমত উভয়ই নিলজ্জ। যেখান থেকে তদবির শুরু হয়, যেমন তদবিরের ধরন হল। যেজন প্রথমত তদবির নিয়ে আসে, দ্বিতীয়ত যার কাছে তদবির আসে এবং যেজন তদবির শুনে।
বাংলাদেশে বিশেষ করে সরকারি সকল টেন্ডারে, বাংলাদেশের সকল সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, বাংলাদেশে সকল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে,এমনকি বাংলাদেশে সকল বিধবা ভাতা,বয়স্ক ভাতাসহ বিবিধ বিষয়ে শতভাগ তদবির চলে।
তদবির আর তদবির। এ যেন চরম এক নিলজ্জ জাতিতে আমরা পরিণত হয়েছি। কি অবাক বিষয়। রাষ্ট্রপতির ভবনে প্রধানমন্ত্রীর ভবনে পর্যন্ত তদবিরের মাধ্যমে নিয়োগ হয়ে যায় শতভাগ। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে উপদেষ্টা পরিচালক বিচারপতিসহ প্রায় সকল নিয়োগ তদবিরের মাধ্যমে চলছে।
বাংলাদেশের সরকারি মেথরের চাকরি থেকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত এখানে সবার ক্ষেত্রে এই তদবির শতভাগ প্রযোজ্য হয়েছে বিধায় সকল ক্ষেত্রে শতভাগ অযোগ্য লোকেরা, দেশের মন্ত্রী হয়,এমপি হয়,সচিব থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই অযোগ্য। হায়রে বাংলাদেশ।
তদবির আছে বিধায় সকল অযোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় কাজের ঠিকাদারি পায়, যোগ্যরা সব অনাহারী। যার ফলে সমগ্র মানুষ কিছুদিন পর পর সরকারকে ঘৃণা করা শুরু করে। তখন সরকারের মুর্খ মন্ত্রী – এমপি গুলো জনগণকে উল্টা দেশ বিরোধী রাষ্ট্র, বিরোধী,সমাজ বিরোধীসহ ইত্যাদি উপাধি উল্লেখ করে গালি গালাজ শুরু করে দেয়। একটা সরকার জানতেই চায় না। তাদের দোষ গুলো কি? তাদের ভুলগুলো কি?
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর টেন্ডার গুলো পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদবিরের মাধ্যমে পেয়ে যায়। বাংলাদেশের মত দেশে একজন রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত তদবিরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হয়ে যান।
এমনকি সেনাপ্রধান, নৌবাহিনীর প্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান পর্যন্ত তদবিরের মাধ্যমে হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি তদবিরের হয়ে যান।
যার ফলে আজকে দেশের সকল শাখায় এক চরম অশান্তি বিরাজ করছে চরমে। আমাদের এই দেশে আজকে বড় বড় পদাধিকারীরা আসলেই কেউ গুণে, এবং মানে কেউ বড় নেই। সবাই অযোগ্যতার প্রমাণ বহন করে চলছেন। এ যেন দিনের আলোর মত পরিস্কার। এ যেন জী হুজুর হ্যাঁ হুজুরের এক দেশে পরিণত হয়েছে। কেউ যেন কিছু জানে না। কেউ যেন কিছুই বুঝে না।
তদবিরের মত একটি শব্দের মাজে আজকে সবাই জিম্মি। যতদিন পর্যন্ত দেশে তদবির চলবে, ততদিন পর্যন্ত দেশের না হবে কোন উন্নয়ন, না আসবে কোন শান্তি। তদবির মানে চিনি ছাড়া লবন দিয়ে পায়েস পাকানোর সমান। তদবির নামের শব্দটাকে চিরদিনের জন্য ঘৃণা করা শিখতে হবে সবার। তবেই আমাদের দেশ হবে সমৃদ্ধিশালী।
অথই নূরুল আমিন
কবি কলামিস্ট ও রাষ্ট্র বিজ্ঞানী