হৃদয় শিকদার ,নিজস্ব প্রতিবেদক
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের ২৮০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে তৃণমূল বিএনপি। দলটির ঘোষণা অনুযায়ী মহাসচিব তৈমূর আলম খন্দকার নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে লড়বেন। তবে এই আসনে তিনি যাতে না লড়েন, সে জন্য চলছে দেন দরবার।
কোন আসনে নির্বাচন করবেন তৈমূর আলম, এ নিয়ে দেনদরবারের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। ফাইল ছবি কোন আসনে নির্বাচন করবেন তৈমূর আলম, এ নিয়ে দেনদরবারের ভিডিও ফাঁস হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও থেকে এমনটাই ধারণা পাওয়া যায়। ভিডিওটি নিয়ে এখন অনলাইন ও অফলাইনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।ফাঁস হওয়া ভিডিওতে কোন আসনে নির্বাচন করবেন, তা নিয়ে তৈমুর আলমকে কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে ফোনের ওপাশ থেকে তৈমুর আলমকে কিছু বলা হয়।
জবাবে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘৫-এ (নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন) কিনব না। প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা বলার বলেছি। কথার পরিবর্তন করব না। ওনারা গাজীর কাছ থেকে বায়াসড (প্রভাবিত) হয়েছে।’
বহিষ্কার করলেও দল পরিবর্তন করব না: তৈমূর তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘ওখানে আপনার সামনে তো যার সাথে কথা বলা দরকার কথা বলা হয়েছে, উনাকে আমি বলেছি। আমি কথা পরিবর্তন করবো না। উনারা আমাদের গিনিপিগ মনে করে, যা খুশি আমাদের দ্বারা করাবে। তা হবে না, তা হবে না। বইল্যা দিয়েন, তৈমূর আলম খন্দকার এক কথার লোক। আপনার সামনে যার সাথে কথা বলার বলে এসেছি, কথাটা উনি বলুক। যার সামনে আমি বলে এসেছি যে আমি রূপগঞ্জ থেকে করবো। তার সামনে আবার দেখা করাক, তার সামনে আবার কথা পাল্টাই। আপনি জানাই দিয়েন, আল্লাহর কাছে ছাড়া কারও সামনে মাথা নত করার অভ্যাস নেই আমার।’
এদিকে বুধবার (২৯ নভেম্বর) চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার অনুষ্ঠানে তৈমূর আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফলাফল মেনে নেয়া হবে। তবে আওয়ামী লীগকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেয়া হবে না। এই জন্যই নির্বাচনে আসা।
তৈমূর আলম তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে রাজনীতি করারও ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে আসন নিয়ে দেনদরবারের মধ্যে তার সে সব বক্তব্য নিয়েই কথা উঠেছে।
অন্যদিকে দলটির চেয়ারপারসন সমশের মবিন চৌধুরী সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর তৃণমূল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (তৃণমূল বিএনপি) কাউন্সিল থেকে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সাবেক বিএনপি নেতা সমশের মবিন চৌধুরী চেয়ারপারসন এবং তৈমুর আলম খন্দকার মহাসচিব নির্বাচিত হন।
ভোট বয়কটের দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে সিটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য গত বছর নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক পদ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পদ থেকে তৈমুর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
মহাসচিব হওয়ার পর এক অনুষ্ঠানে তৈমূর আলম ঘোষণা দনে, তৃণমূল বিএনপিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নয়, জনগণের দল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ব্যারিস্টার নাজমূল হুদা তৃণমূল বিএনপি নামে দল প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দলটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়। এর তিনদিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান নাজমুল হুদা। তার মৃত্যুর পর ১৬ মে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার অন্তরা হুদা।