তোফায়েল আহমেদ, ধামরাই উপজেলা প্রতিনিধি
গতকাল ৩রা নভেম্বর ২০২৩ ইং, শুক্রবার ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত মহা সমাবেশ ঐতিহাসিক সোহরাওয়া্র্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের লক্ষধিক তৌহিদি জনতা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণ করেন । এসময় দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরামগণ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলনের সংগ্রামী আমীর এদেশ বাসির ধর্মীয়, আধ্যাতিক এবং রাজনৈতিক রাহবার মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত আজকের সমাবেশ আজকে আলহাদুলিল্লাহ মহা সমুদ্রে পরিনত হয়েছে। আমি চিন্তিত ছিলাম যে, কিছুদিন আগে দেশের ভিতর যে অরাজকতা সহ যে ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বাংলাদেশে ঘটেছে এরপরেও আপনারা পূর্বঘোষিত মহাসমাবেশে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হতে পারবেন এটা কিন্তু আমার অনেকটাই চিন্তা ছিল যে, সেই ভাবে সমাবেশ হয় কি হয়না । কিন্তু আল্লাহর খাছ মেহেরবানী আজকে আমরা খুশিতে এবং আমাদের যে, মনোবল, চিন্তা চেতনা সেইটা বাস্তবায়নে আজকে সাহস অনেক অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে। এবং আমার মন বলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজকে যে, ন্যায্য দাবী নিয়ে মাঠে উপস্থিত হয়েছে সেই দাবীর সাথে আল্লাহর রহমত একশো ভাগ জরিত আজকে মহাসমাবেশ তার প্রমাণিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দলের নেতা কর্মীদের ভয়, ভিতির মধ্য দিয়ে আজকে স্বতস্ফুর্ত ভাবে উপস্থিতি বাংলাদেশে এই বার্তা পৌছেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ন্যায্য দাবী আদায়ের ব্যপারে পিছে দৌড় দেওয়ার দল নয়। এবং জালেমদের অত্যাচার সহ্য করবে সে দল ইসলামী আন্দোলন নয়। যদি জালিমের জুলুম এই বাংলাদেশের ভিতরে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামি আন্দোলন তার নেতা কর্মী সহ বাংলাদেশের মুসলমান যদি তাদের রক্ত দিতে হয়, যদি তাদের ঘাম ঝরাতে হয়, যদি তাদের অর্থ খরচ করতে হয় যদি বিভিন্ন বালা মছিবত এবং বিভিন্ন ভয় ভিতির মধ্যেও তারা তাদের ন্যায্য দাবী পূরণে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন এই বার্তা আজকে শুধু এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না এই বার্তা আজকে বাংলাদেশের ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগ সরকার যারা অবৈধভাবে সংসদে চেপে বসে বাংলাদেশে একটা অসুন্দর দেশে পরিনত করার চেষ্টা করছে এবং বিরোধীদলীয় নেতা কর্মীদের যেভাবে একেবারে নির্মূল, ধ্বংস করার যে নীল নক্শা তৈরী করেছে সেই সরকারের কাছেও এই বার্তা পৌছাতে চাই।
আপনারা যে চিন্তা নিয়ে সামনে নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করবেন এবং যা মন চায় তাই করবেন আর বাংলাদেশের মানুষ সেটা বসে বসে দেখবে, আর তারা বসে বসে নাকে তৈল দিয়ে ঘুমাবে সেই ১৪/১৮ সালের নির্বাচন ২৪ সালে আর বাংলার জমিনে হতে দেওয়া হবেনা। তিনি বর্তমান আওয়ামী সরকার কে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, যিনি বর্তমান সর্ব্বোচ্চ ক্ষমতায় প্রেসিডেন্ট সম্মানিত যিনি আপনার পদে অধিষ্ট রয়েছেন আপনারদের কে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য বলছি যে, আজকে বাংলাদেশের মধ্যে যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে আজকে বাংলাদেশের মানুষের কোন দফা, কোন চিন্তা ছাড়া , একদফা, একদাবী, বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ, এবং সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন হবে। তিনি বলেন এই দাবী কি যুক্তিক না অযুক্তিক। এসময় হাজারো জনতা সমর্থনে মূখরিত হয়ে উঠে। তিনি আওয়ামীলীগ সরকার কে স্মরণ করিয়ে বলেন যে, এই সেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, পাকিস্তান আইয়ুব খান সরকার যখন নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করেছিল তখন এই ঐতিহাসিক মাঠ থেকেই ঘোষনা করে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন দিয়ে তাদের অধিকার কে বাস্তবায়ন করেছিল। আজ ৩ নভেম্বর আজকে এই সরকারের মেয়াদ শেষ এজন্যই আজকে আমরা এই তারিখ নির্ধারন করেছি। ২৮ অক্টোবরে গ্রেফতার হওয়া বিএনপির নেতাকর্মী এবং আলেম ওলামাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল নেতা কর্মীদের মুক্তি দিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন কোন প্রকার ভয়, ভিতি, মামলা, গ্রেফতার দেখিয়ে উদীয়মান সত্য, ন্যায্য দাবী যারা প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের কে বাধা দিয়ে থামিয়ে রাখতে পারবেন না ইনশা-আল্লাহ। সেজন্য দেশ উন্নয়নের জন্য আপনি যদি দেশ কে ভালোবেসে থাকেন, আওয়ামীলীগ আমার ভাইদের কে বলব আপনারা যদি দেশের কল্যাণ চান, প্রশাসনিক ভাইদের কে বলব আপনার যদি দেশের কল্যাণ চান, আপনারা যদি জনগনের কল্যাণ চান, তাহল অচিরেই বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের, আলেম ওলামাদেরকে নিঃশ্বর্ত মুক্তি দিতে হবে, আটকিয়ে রাখা যাবে না। আপনারা যে, সংবিধানের বাহিরে যাবেন না । সংবিধান তৈরী করে ছিল কে? এই বর্তমান অবৈধ সরকার। এই সংবিধানও অবৈধ বলে ঘোষণা করেন শায়েখে চরমোনাই। এই অবৈধ সংবিধানের মাধ্যমে আজকে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করবেন? জেলে দেবেন? তাদেরকে রক্তক্ষরণ করবেন? মায়ের কোল খালি করবেন? সন্তান এতিম করবেন? স্ত্রী বিধবা করবেন? আর এটা আমরা বসে দেখবো? এটা বাংলাদেশের মানুষ সহ্য করবেনা। এর প্রতিবাদ করবেই ইনশা-আল্লাহ। উপস্থিত তৌহিদী জনতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন দেশ, দেশের মহব্বত ঈমানের্ একটি অংশ । দেশ আজকে ধ্বংশের পথে। কিকি পর্যায়ে তা বক্তাদের আলোচনায় আপনারা শুনেছেন। দেশ কে যদি আমরা মহব্বত করে থাকি. ঈমান যদি আমাদের অন্তরে থাকে তাহলে ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের জন্য , দেশ রক্ষার জন্য, আমাদের যদি জান দিতে হয়, আমাদের যদি রক্ত দিতে হয়, আমাদের যদি ঘাম ঝরাতে হয়, সমস্ত প্রোগ্রামে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকল কর্মী একমত আছে কিনা তার সম্মতি নেন তিনি। এসময় ফিলিস্তিনের মা-বোন, শিশু সহ সকলের উপর অত্যাচার ও হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান । জাতিসংঘ, তামাম দুনিয়ার মুসলমান এবং বিবেকবান মানুষদেরকে তাদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান , এবং জালিম , ভূমি দস্যু বাতিল ইসরাইলকে বিতারিত করার জন্য সবাইকে একমত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সম্মেলনের পরবর্তী কর্মসূচীর ঘোষনা করেন।
১) ১০ নভেম্বর ২০২৩ এর মধ্যে সরকারকে পদত্যাগ করে এবং জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সকল নিবন্ধিত এবং প্রতিনিধিত্বশীল আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে কথিত জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ২) বিদ্যমানরাজনৈতিক সংকট নিরসনে আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক কারনে কারাবদ্ধ বিএনপি সহ সকল ওলামায়ে কেরাম, সকল শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ৩) সরকার এসব দাবী মেনে না নিলে আন্দোলরত সকল বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীকালে বৃহত্তর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে ইনশা-আল্লাহ। ৪) জনগনের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে এবং অবৈধ সরকারের পতনের লক্ষে বিএনপি সহ বিরোধী দল সমূহের সকল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর প্রতি বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন সমর্থন ঘোষনা করার মধ্য দিয়ে দেশ ও জনগনের কল্যাণের দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।