তোফায়েল আহমেদ,ধামরাই উপজেলা প্রতিনিধি:
জ্ঞানের বাতিঘর ডাউটিয়া জামিয়া ইসলামিয়া কওমি মাদরাসা, কালামপুর, ধামরাই, ঢাকা। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিক্ষার গুনগত মানে সারা ধামরাইতে বিস্তৃত এক নাম। যার প্রতিদিনের কর্মসূচী শুরু হয় রাত শেষে কচি কোমল শিশু , বালক, যুবক ও প্রবীন উস্তাদদের সমন্বিত কলকাকলি শব্দ চারন, তাসবিহ, জিকির আসগার এর মাধ্যমে। মাদরাসা সম্পর্কে আমরা যা বুঝি তা হল যেখানে শুধু দ্বীনি এলেম শিখানো হয়। কিন্তু কালের বিবর্তনে মাদরাসা শিক্ষারও পরিবর্রন হয়েছে। অধিকাংশ মাদরাসা গুলোতে এখন দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামি সংস্কৃতির চর্চ্চা চালু রয়েছে। মাদরাসা গুলোতে এখন শুধু আরবী হরফ শেখানো হয় না। বরং সেখানে আরবী সাহি্ত্য চর্চ্চা, ইসলামী সঙ্গীত , নাতে রাসুল (সা.), শুদ্ধ বাংলা উচ্চারন, বাংলা, ইংরেজী, আবরী, ও উর্দু ভাষায় বক্তৃতা, সুন্দর হাতের লেখা ইত্যাদি নানা কর্মসূচি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রদের আগামীর সমাজ, দেশ ও সারা বিশ্বের রাহবার হিসেবে তৈরী করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় দ্বীনি চেতনা পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল 25 শে অক্টোবর 2023 ইং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দেশ বরেণ্য ও স্থানীয় উলামায়ে কেরাম সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মাদরাসার শিকর্থীরা অংশ গ্রহণ করে । অনুষ্ঠানটি 5 টি বিষয়ের উপর সাজানো হয়। (১) হিফজুল কোরআন (২) হিফজুল হাদিস (৩) আরবি বক্তৃতা (৪) বাংলা বক্তৃতা (৫) ইসলামী সংগীত।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্র জামিয়ার পক্ষ থেকে হিফজুল কুরআন বিভাগে হাফেজ আবু ইউসুফ (দ্বিতীয় স্থান), হাফেজ আমির হামজা (পঞ্চম স্থান), হিফজুল হাদিস বিভাগে মোঃ আমিনুল, ইসলাম (দ্বিতীয় স্থান), মোঃ ফজলে রাব্বি (চতুর্থ স্থান), আরবি বক্তৃতায় আবু বকর সিদ্দিক (তৃতীয় স্থান), বাংলা বক্তৃতায় মোঃ নাহিদুল ইসলাম (তৃতীয় স্থান, ) ইসলামিক কুইজে, আসাদুল ইসলাম (তৃতীয় স্থান), শাহিনুর রহমান (১৩ তম স্থান) এবং হাসান মাহমুদ ও আমির হামজা (সান্তনা পুরস্কার) সহ সর্বমোট ১০ টি পুরস্কার অর্জন করেন।
এর আগে বাছাই পর্বে হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী নদভী সাহেব এর সভাপতিত্বে ও হাফেজ মোহাম্মদ ফজলে রাব্বির পরিচালনায় হাফেজ আমির হামজা, হাফেজ মিসবাহ ও হাফেজ আবু ইউসুফকে কোরআন বিভাগের জন্য, হাফেজ মাহমুদুল হাসান, হাফেজ আমিনুল ইসলাম ও হাফেজ ফজলে রাব্বিকে হিফজুল হাদিসের জন্য, হাফেজ ফজলে রাব্বি, হাফেজ আব্দুল হামিদ ও হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিকীকে আরবি বক্তৃতার জন্য, মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম, হাফেজ আবু বকর ও মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে বাংলা বক্তৃতার জন্য, এবং মোঃ সিয়াম আহমদ, হাফেজ আমির হামজা ও হাফেজ হাবিবুর রহমানকে ইসলামী সঙ্গীতের জন্য নির্বাচন করা হয়। অত্র জামিয়ার পরিচালক জানান যে, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার পাশাপাশি ধর্মীয় সংস্কৃতির চর্চ্চা অপরীহার্য্য। তাই ছাত্রদের মানসিক বিকাশের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন। চলমান এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের কওমী সন্তানেরা একদিন দেশ পেড়িয়ে বিদেশেও বাংলাদেশের মর্যাদা সু উচ্চ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তিনি।