জুলহাস আহমেদ, বরগুনা:
বরগুনা সদর উপজেলায় দখলকৃত জমির ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসময় বাঁধা দিকে এক গৃহবধূর উপর হামলা করা হয়। ঘটনাটি ঘটে সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আজগরকাঠি গ্রামে।
এঘটনায় বুধবার (১১ অক্টোবর) বরগুনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে ভুক্তভোগী। ভুক্তভোগীর নাম আবদুর রব হাওলাদার (৬২), তিনি একই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।
ভুক্তভোগী ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মৃত ছয়জদ্দিনের ছেলে মো. মিলন (৪১), মো. জাকির (৩৫) ও তাদের সহযোগী আল আমিন এবং আলমগীরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। গত মাসের ২২ তারিখ ভুক্তভোগী রব হাওলাদারের জমি থেকে চাষকৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে। এসময় বাঁধা দিলে আবদুর রব ও তার পুত্রবধূ রেখা আক্তারকে মারধর করে অভিযুক্তরা। এছাড়াও মিলন, জাকির ও তাদের সহযোগীরা রব হাওলাদারের ভাতিজাকে বশত ঘর থেকেও বের করে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয়রা বলেন, অভিযুক্ত মো. মিলন রাজধানীতে চাকরি করে। সেখানে বসেই এলাকায় নিজের অধিপত্য বিস্তার করে আসছে৷ তার বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা। কেউ কিছু বললেই তাকে মারধর ও হামলা মামলার শিকার হতে হয়।
ভুক্তভোগী আবদুর রব হাওলাদার বলেন, আমি ও আমার ছেলে বউ রেখা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা আমাকে ও আমার ছেলে বউকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। আমাদের ডাকাডাকি শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তাদের সামনেই তারা আমাকে ও আমার ছেলে বউকে খুন করে জমির মধ্যে পুতে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়াও আমাদেরকে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এমনকি আমার ভাই দেলোয়ার হোসেনকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। আমাদের কাউকে রাস্তায় উঠতে দেয়না। তারা সবসময় বলে যে তাদেরকে কেউ কিছু করতে পারবে না। তারা নাকি একাই একশ।
আবদুর রব হাওলাদারের পুত্রবধূ রেখা আক্তার বলেন, মিলন-জাকির ও তাদের সহযোগীরা মিলে আমার শশুরের জমিতে রোপন করা ধানের চারা উপড়ে ফেলেৃ এতে প্রায় করিয়া ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। এছাড়াও আমাদের পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেছে। গাছের সুপারি ওঅন্যান্য ফল নিয়ে গেছে। ওদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমরা আইনের কাছে সহযোগিতা চাই।
আরেক ভুক্তভোগী মো. গিয়াস বলেন, আমি একজন প্রবাসী। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমাদের বশত ঘরটিতে থাকতাম। আমি দেশের বাইরে যাওয়ার পরে এই মিলন ও জাকিরেরা আমার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং এই ঘরে না উঠতে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছে। আমরা এখন অন্যের বাড়িতে থাকছি। নিজেদের ঘর থাকতেও মিলনের অত্যাচারে আমরা ঘরছাড়া। এর বিচার চাই।
অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে মো. মিলনকে কয়েকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি৷
এবিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদম্ত করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সন্ত্রাস দমন এবং সাধারণ মানুষের জান মাল রক্ষায় পুলিশ মাঠে আছে সবসময়।