এম জাফরান হারুন, নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী::
পটুয়াখালীতে আন্তঃ জেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সংঘবদ্ধ দলের ৩ সদস্যকে আটক করেছে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র সহ মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানান, পটুয়াখালী টাউন কালিকাপুর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (৪২), পিতা আলী হোসেন, গ্রামঃ নয়াপাড়া, থানা-নারায়নগঞ্জ সদর, জেলা-নারায়নগঞ্জ এর মালিকানাধীন *রুপালী ফিলিং স্টেশনে* রাত্র গত ০৪/০৬/২০২৩ ইং দিবাগত রাত ০৩.১৮ মিনিট হতে ০৩.৪৫ মিনিটের সময় ফিলিং স্টেশনের অফিস ভবনের মূল দরজার তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে কক্ষের ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা ম্যানেজার এবং দু”জন মেশিন অপারেটরকে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মৃত্যুর ভয় দেখিয়া মুখ, দুই হাত-পা, গামছা, লুঙ্গি, মশারির ছেড়া অংশ দিয়ে বেধে বাথরুমে নিয়ে বাহির থেকে দরজা আটকিয়ে দিয়ে ম্যানেজারের কক্ষের মধ্যে প্রবেশ করে অফিস কক্ষের মধ্যে থাকা স্টিলের আলমারী ভেঙ্গে নগদ ৪,৯২,২৭০/- টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
এই ঘটনায় বাদীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা নং-১১, তারিখ-০৮/০৬/২০২৩খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী সদর থানার একটি চৌকস পুলিশ দল বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির মূল রহস্য উদঘাটন করে আন্তঃজেলা দূধর্ষ ডাকাত চক্রের ৩ সদস্যকে আটক পূর্বক ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ডাকাত সদস্যরা হলো-০১। মোঃ শাহিদ সরদার ওরফে শহিদ (৪০), পিতা-আলেফ সরদার, সাং- ডঙ্গী বাকীগঞ্জ, ফরিদপুর। ০২। নুরু খাঁ ওরফে নুর হোসেন, পিতা-দুলাল খাঁ, সাং- পূর্ব উজানচর নতুন ব্রিজ, গোয়ালন্দ রাজবাড়ী। ০৩। মোঃ সুজাত প্রামানিক, পিতা মোঃ কাজল প্রামানিক, সাং-উজানচড়, নলিয়াপাড়া, গোয়ালন্দ, রাজবাড়ী।
উল্লেখ্য, প্রথমে আটককৃত ০১ নং ডাকাত সদস্য মোঃ শাহিদ সরদার ওরফে শহিদ কে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আনা হলে, সে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জাবানবন্দি প্রদান করে। তার দেয়া তথ্যর ভিওিতে পুলিশের টিম গত ২৪/০৭/২০২৩ ইং ডাকাত দলের অপর দুই সদস্য সুজাত প্রামানিক ও নুরু খাঁ ওরফে নুর হোসেনকে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানা এলাকা হতে আটক করে। তারাও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজাত ও নুরু ডাকাতির কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবিন্দ প্রদান করে।
এই ডাকাত দল অত্যন্ত দূর্ধর্ষ প্রকৃতির। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায় যে বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বরিশাল বিভাগের ০৬টি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে তথ্য সংগ্রহ করে ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়ে সুযোগ বুঝে ক্ষিপ্র গতিতে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, দোকান-মার্কেট, ফিলিং স্টেশন, গাড়ি ডাকাতি করে তারা দ্রুত কেটে পরে গাঁ ডাকা দেয়। এই দলের প্রত্যেকটি সদস্য অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির, ডাকাতি করাই তাদের মূল পেশা। আটককৃত প্রত্যেক ডাকাতের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এবং এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সকল আসামীকে গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে বলে পুলিশ জানান।